বাংলাদেশে বাড়ছে সহিংসতা

প্রকাশিত: ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২৫

বাংলাদেশে বাড়ছে সহিংসতা

ঢাকা হান্ট:-জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে যেমন বাড়ছে উত্তাপ, তেমনি বাড়ছে সহিংসতা। হাতাহাতি থেকে ঘটছে হত্যার মতো ঘটনা। নৈরাজ্যের এমন পরিস্থিতিতে অরাজনৈতিক কারণেও হচ্ছে খুনখারাবি। আর এসব কাজে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

সম্প্রতি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে ফিল্মি স্টাইলে সূত্রাপুরে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সন্ত্রাসীদের পরিণতি কেমন হয়, তাই মনে করিয়ে দিলো এই ঘটনা। এর পাঁচ দিন আগে চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর জনসংযোগে গুলিতে প্রাণ হারান বাবলা নামের আরেক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

দুটি ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে, ঢাকায় এবং রাউজানে বাড়ি এবং পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র, গুলি এবং অবৈধ অস্ত্র আর গোলাবারুদ।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রামে ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের ২২টিতে এবং খুলনায় ৪১টি ঘটনার ১৫টিতেই ব্যবহৃত হয় আগ্নেয়াস্ত্র। এ অবস্থায় গত সোমবার মুন্সিগঞ্জে মেলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানার সন্ধান।

২৬ অক্টোবর রাজশাহীর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে উদ্ধার হয় আটটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, দুই কেজি গান পাউডার ও দুই কেজি প্লাস্টিক বিস্ফোরক। এতসব অভিযানের পরও মেলেনি আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ সরকারি অস্ত্র ও আড়াই লাখেরও বেশি গোলাবারুদের।

 

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলছে। যেসব অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো উদ্ধারে ইতোমধ্যে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের বিকল্প নেই। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে যে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করে, এখানে আমাদের বর্ডারকে পুরোপুরি সিল করতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি অনেক বাড়াতে হবে। যারা ধরে পড়বে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গেলো ১০ মাসে দেশব্যাপী হত্যা মামলা হয়েছে ৩ হাজার ১৪১টি। এছাড়া অস্ত্র আইনে ১ হাজার ৪৭৬টি এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে ৩৩২টি।