প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে

প্রকাশিত: ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে

ঢাকা হ্যান্ট:-আসন্ন ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যার এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি জানায়, খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ মাস আগে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই সময় ‘জেনারেশন জেডের’ নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এ সময়কালকে সাময়িকীটি দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে বর্ণনা করেছে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এই নির্বাচন গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতের সূচনা করতে পারে।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য বিজয় নিয়ে এই পূর্বাভাস এসেছে টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়। প্রতিবেদনে ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য তুলে ধরে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ে বাসটি কয়েক মাইল ধীরে চলছিল, যেন উপস্থিত জনতা তাকে কাছ থেকে দেখতে পারে।

 

 

সাময়িকীটিতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি।

 

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিআইপিএসএসের গবেষণা পরিচালক শাফকাত মুনিরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আমার জীবনের প্রায় দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীর রাস্তাঘাটে আবারও নির্বাচনী প্রচারের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

 

 

বিশ্লেষণে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধানই হবে শেষ দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষই মনে করেন, সরকারটি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে। এরমধ্যে অন্যতম হলো নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।

 

 

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সাময়িকীটি জানায়, দলটি ‘সব নাগরিকের জন্য সংযত শাসনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দলটি এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতাও সীমিত। এই প্রেক্ষাপটকে তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দ্য ইকোনমিস্ট, কারণ বিএনপি বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

 

 

সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, দীর্ঘদিন বিএনপি পরিচালিত হয়েছে তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তার আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা না দিলেও বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরমধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচিত হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কাজ করতে সমস্যা হবে না, কারণ ট্রাম্প একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী।

দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, তারেক রহমানের মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। তিনি ২০২৪ সালের বিক্ষোভে নিহতদের জন্য বিচার দাবি করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছেন।