চিকিৎসা খরচ লাগামহীন বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

চিকিৎসা খরচ লাগামহীন বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ:-গরিব মানুষকে কম মূল্যে চিকিৎসাসেবার মূলমন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৫৫ বছর পর সেই মন্ত্র থেকে সরে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার নজির গড়তে শুরু করেছে। আগের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে।

হাসপাতালের বিছানা থেকে শুরু করে সরঞ্জাম—সবখানেই লেগে আছে মুক্তিযুদ্ধকালীন ফিল্ড হাসপাতালের চিহ্ন। গত ২১ এপ্রিল সাভারের মির্জানগরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সদর দপ্তরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার নিদারুণ চিত্র।

জানা গেছে, বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এখানে রোগী দেখেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তবে সকাল ১১টার আগে কোনো চিকিৎসক আসেন না।

অথচ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জীবিত থাকাকালে দুই শিফটে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রোগী দেখা হতো।

হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা  বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন আর স্বাস্থ্যসেবার মন্ত্রে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন ডাক্তার এসেছিলেন, ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ।

তিনি নিজে কোনো বেতন-ভাতা নিতেন না। কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে উন্নত সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুর রহমানকে অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের কাউকেই থাকতে দেয়নি বর্তমানের দুর্নীতিবাজ প্রশাসন। এ ছাড়া গ্রামীণ উপকেন্দ্রগুলো দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ডা. মিজানুর রহমান, তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।ফলে সেখানেও এখন দুরবস্থা বিরাজ করছে।২১ এপ্রিল দুপুরে সরেজমিনে গেলে হাতে গোনা কয়েকজন রোগী দেখা যায়। ফিজিওথেরাপি বিভাগ খাঁ খাঁ করছিল। জরুরি বিভাগেও রোগী নেই। একজন নার্স বলেন, আগের মতো রোগীর চাপ নেই। তাই বেশির ভাগ সময় অলস সময় কাটে।বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বিদেশি অনুদানের নয়ছয়, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ লোপাট, সদর দপ্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উপকেন্দ্রগুলোতে সম্পত্তি বিক্রি করে ফেলার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে।সদর দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, কয়েক শ গাছের গুঁড়ি আছে। অবস্থা দেখে মনে হলো, খুব বেশিদিন হয়নি গাছগুলো কাটা হয়েছে। একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক মাস আগে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

হিসাব বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের অনেক পুরনো যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম হলো, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করতে হলে বোর্ডের অনুমোদন লাগবে। পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও আছে। কিন্তু এযাবৎকালে অনেক কিছু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বিক্রি করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি স্বনামধন্য গ্রুপের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনও হয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে এটি হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর ওই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। ফলে একে একে ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এবং অবশেষে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদকে মব সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বর্তমানে কথিত ট্রাস্টি বোর্ডে যাঁরা আছেন, তাঁদের স্বার্থও থাকতে পারে!।,