ভারতে পলাতক যুবলীগ নেতা মুক্তি, নাম বদলে ‘রমেশ চন্দ্র

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

ভারতে পলাতক যুবলীগ নেতা মুক্তি, নাম বদলে ‘রমেশ চন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:-গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশত্যাগ করা সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তিকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তার বর্তমান অবস্থান, পরিচয় পরিবর্তন এবং ইউরোপে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে, যা আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।সীমান্ত পেরিয়ে গা ঢাকা বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকার পতনের পরপরই আলম খান মুক্তি অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রেফতার এড়াতে সম্পূর্ণ গোপন জীবনযাপন শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক মামলা থাকায় দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে চলছেন তিনি।এই নিয়ে গত দুই দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা করছেন সাধারণ মানুষ। তাই বিষয় টি তুলে ধরেন আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি। আসুন দেখে নেই সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি বর্তমান পরিস্থিতি।

ছদ্মনাম ও নতুন পরিচয়
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতে অবস্থানকালে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে আলম খান মুক্তি ‘রমেশ চন্দ্র’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন। শুধু নাম পরিবর্তনই নয়, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি এবং আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি একজন ভারতীয় নারীকে বিয়েও করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে অন্য দেশে অবস্থান বা তৃতীয় দেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা যায়।

ইউরোপমুখী পরিকল্পনা

আলম খান মুক্তির ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ভারতে নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ইউরোপের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ প্রক্রিয়ায় দালালচক্র, ভিসা সংক্রান্ত লবিং এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের কথাও শোনা যাচ্ছে।একটি সূত্র জানায়, “তিনি যেকোনো উপায়ে ভারত ছাড়তে চান। মাল্টাকে তিনি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

সিলেটের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে ‘পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন—এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পালাবদলেরই একটি প্রতিফলন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

যদিও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তার গতিবিধি নজরদারিতে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে তার অবস্থান ও পরিকল্পনা নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।