কারাবন্দী নেতা কর্মীদের ভরসার নাম-প্রবাসী নেতা মাহমুদুর

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

কারাবন্দী নেতা কর্মীদের ভরসার নাম-প্রবাসী নেতা মাহমুদুর

অনলাইন ডেস্ক:-যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মহানগর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রবাসে থেকেও নিজ দলের নেতা–কর্মীদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে দলের নেতা–কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর সিলেট অঞ্চলের কারাবন্দী ও আত্মগোপনে থাকা নেতা–কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুবলীগের এই নেতা।দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয় মাহমুদুর রহমানের নিউইয়র্কের বাসভবনে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৈয়দুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই সভায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঢাকাভিত্তিক আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের তিনি সুদূর প্রবাস থেকে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সে সময় আন্দোলনে ১১ জন কর্মী গ্রেপ্তার হলে, মাহমুদুর রহমান তাঁদের পাশে দাঁড়ান এবং সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করেন।

গত ৫ আগস্টের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিলেটের কারাবন্দী নেতা–কর্মীদের পরিবারের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন মাহমুদুর রহমান। জানা গেছে, ওই তহবিলে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা অনুদান দেন। সংগৃহীত এই অর্থের পুরোটাই কারাবন্দী নেতা–কর্মীদের আইনি সহায়তা ও তাঁদের পরিবারের অনুদান হিসেবে ব্যয় করা হয়। শুধু সিলেট মহানগর নয়; দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার কারাবন্দী এবং আত্মগোপনে থাকা নেতা–কর্মীদেরও তিনি প্রতিনিয়ত নীরবে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নেতা–কর্মীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।তবে নেতা–কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নতুন নয়। গত এক যুগ ধরে তিনি নিভৃতে নেতা–কর্মীদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে তিনি অসংখ্য নেতা–কর্মীকে আর্থিক সহায়তা করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে তিনি পাঁচ লাখ টাকা বিতরণ করেন। প্রতিবছরের মতো সর্বশেষ ঈদুল ফিতরেও তিনি নেতা–কর্মীদের এই সহায়তা দিয়েছেন। প্রবাসে অবস্থান করেও তাঁর এই কর্মীবান্ধব মনোভাব তাঁকে দলের ভেতরে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নেতা–কর্মীদের আর্থিক সহায়তার কারণে তিনি মামলার আসামিও হয়েছেন। জানা গেছে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাহমুদুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

মামলা–হামলা ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি পিছপা হননি। তাঁর এই নিরলস পরিশ্রমের কারণেই আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায়ে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছে। দলের স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মতে, মাহমুদুর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতারাই দলের শক্তির মূল ভিত্তি। ভবিষ্যতের যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে এমন নিরলস পরিশ্রমী ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন ধারাবাহিকভাবে হওয়া উচিত বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা।