ঢাকা ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৬
রুহিন আহমদ, বিশেষ প্রতিনিধি (ঢাকা হান্ট)তিবলিসি, জর্জিয়া:-ঐতিহাসিকভাবেই ককেশাস অঞ্চলের পাহাড়বেষ্টিত দেশ জর্জিয়া তার আতিথেয়তা এবং বীরত্বের জন্য পরিচিত।
কিন্তু আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে জর্জিয়া এখন কেবল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত কণ্ঠস্বর, বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ঐতিহাসিক উদারতার উত্তরাধিকার
জর্জিয়ার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই দেশ সবসময়ই মুক্তচিন্তার কদর করেছে। রাশিয়ার আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের মুখেও জর্জিয়া তার নিজস্ব সংস্কৃতি এবং বাক-স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেয়নি। আজ যখন বিশ্বের অনেক দেশে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, তখন জর্জিয়া তার আইনি কাঠামো এবং ওমবাডসম্যান (Public Defender) অফিসের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষায় এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ গন্তব্য
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের যেসব দেশগুলোতে সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেসব অঞ্চলের কলম সৈনিকরা জর্জিয়াকে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। জর্জিয়ার ইমিগ্রেশন আইন এবং মানবিক সুরক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে, যা একজন সাংবাদিককে ভয়হীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।
ইউরোপীয় মানদণ্ড ও মানবিক সুরক্ষা
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) যোগদানের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জর্জিয়ার প্রতিটি আইনি সংস্কারে দৃশ্যমান। বিশেষ করে ‘রাইটস জর্জিয়া’ (Rights Georgia)-এর মতো সংস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যেভাবে জীবনের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা প্রদান করে, তা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য একটি মডেল। জর্জিয়া প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল পর্যটন নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নেও আপসহীন।
ককেশাস অঞ্চলের হৃদস্পন্দন
একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে জর্জিয়ার রাজপথে চলাফেরা করার সময় অনুভব করা যায় সেই স্বাধীনতা, যা একজন মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য অক্সিজেনের মতো। এই দেশ শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, বরং যারা সত্য বলতে গিয়ে নিজ দেশে অপরাধী হিসেবে গণ্য হন, তাদের জন্য এক পরম মমতাময় আশ্রয়।
জর্জিয়া আজ কেবল একটি মানচিত্রের নাম নয়; এটি বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য একটি ভরসার নাম, একটি নিরাপদ বাতিঘর।
সম্পাদক ও প্রকাশক :তানভীর হাসান।
ব্যাবস্থাপনা পরিচালক:মীর মোশাররফ হোসেন।