কলম যখন কাঠগড়ায়: সংকটে বাংলাদেশের গণমাধ্যম

প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২৬

কলম যখন কাঠগড়ায়: সংকটে বাংলাদেশের গণমাধ্যম

রুহিন আহমদ:-বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক চরম ক্রান্তিকাল চলছে। গত এক বছরে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা, নির্বিচার মামলা এবং মব-জাস্টিসের নামে হেনস্তা এক ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। সত্যের সন্ধানে মাঠে থাকা সাংবাদিকরা আজ প্রতিনিয়ত জীবন ও স্বাধীনতার ঝুঁকিতে ভুগছেন। যার ফলে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার মৌলিক অধিকার আজ বড় ধরনের হুমকির মুখে!

​কলম যখন কাঠগড়ায়-

ভয়ের সংস্কৃতির বিস্তার ​গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চিত্র স্পষ্ট করে দেয় যে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা সংকুচিত।

কোথাও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে, আবার কোথাও স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে ডিজিটাল বা প্রচলিত আইনে ঠুকে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক মামলা,!

​মিথ্যা মামলার পাহাড়: সাংবাদিক নিপীড়নের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ঢালাও মামলা’। কোনো প্রমাণ ছাড়াই কেবল হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককেও আসামি করা হচ্ছে।

​মব-কালচারের থাবা-সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক প্রবণতা হলো দলবদ্ধভাবে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া। সত্য প্রকাশ করলেই নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী এসে সরাসরি কার্যালয় ভাঙচুর বা শারীরিক আক্রমণ চালাচ্ছে।
​”সাংবাদিকতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সত্য লেখা মানেই নিজের জীবন এবং পরিবারকে বিপদে ফেলা। দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে,!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মী।

​চার খুন ও শত মামলা: বিচারের অপেক্ষায় গণমাধ্যম, বিগত বছরগুলোর অমীমাংসিত সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষোভ কাটতে না কাটতেই যোগ হয়েছে নতুন ট্র্যাজেডি। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত চারজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিংবা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।,

​এই হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এখনো এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় আটকে আছে। শত শত মামলার আড়ালে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, আর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচারের আশায় দিন গুনছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।

​গণমাধ্যম কি আজ অবরুদ্ধ?

​আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের এই নাজুক চিত্র বারবার উঠে আসছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে দেশের অবস্থান ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে,!

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমকে বলা হয় চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু সেই স্তম্ভটিকেই যদি ক্রমাগত আঘাত করে দুর্বল করে দেওয়া হয়, তবে পুরো গণতন্ত্রের কাঠামো ভেঙে পড়তে বাধ্য। স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে না পারলে কেবল গণমাধ্যম নয়, সমগ্র সমাজই এক অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে!,

​সময় এখনই সোচ্চার হওয়ার বাংলাদেশ,আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম চাই, নাকি ভয়ের সংস্কৃতিতে কুঁকড়ে থাকা এক নীরব সমাজ? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের কালাকানুন বাতিল করে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
​জনগণ সত্য জানতে চায়, আর সেই সত্য প্রকাশের পথকে নির্বিঘ্ন করাই হোক রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গীকার,!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ