জাতিসংঘের মঞ্চে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২৬

জাতিসংঘের মঞ্চে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান

রুহিন আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক:-বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি প্রবাসী শ্রমিক আজও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। অনেক অভিবাসী প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিয়মিত কাগজপত্র ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে বিদেশে জীবনযাপন করছেন। এমন বাস্তবতায় জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান নতুন আশার বার্তা হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা।

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামের সাধারণ বিতর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসীদের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।


মন্ত্রী জানান, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে “গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন (জিসিএম)” বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম আইএমআরএফে দেওয়া ১০টি অঙ্গীকারের মধ্যে সাতটি বাস্তবায়ন হওয়াকে তিনি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেন।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে থাকা প্রবাসীরা দালালচক্রের প্রতারণা, কম মজুরি ও আইনি জটিলতা থেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা পেতে পারেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও বিভিন্ন দেশে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।


মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনও এখন অভিবাসনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের বহু মানুষ ভবিষ্যতে জীবিকার তাগিদে বিদেশমুখী হতে বাধ্য হতে পারেন।

তাই এখন থেকেই মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
প্রবাসীদের অনেকেই মনে করেন, তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও বাস্তবে অনেক সময় অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন।

জাতিসংঘের এই ফোরামে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান বিদেশে থাকা লাখো প্রবাসীর কষ্ট, ত্যাগ ও মানবিক বাস্তবতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বলেই আশা করা হচ্ছে।