ঢাকা ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফাঁস হয়েছে রাশিয়ার এক গোপন সামরিক পরিকল্পনা। ব্রিটিশ সাময়িকী The Economist–এর হাতে আসা একটি গোপন নথিতে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানকে শক্তিশালী করতে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মস্কো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা GRU একটি ১০ পৃষ্ঠার গোপন প্রস্তাবনা তৈরি করে। সেখানে ইরানকে প্রায় ৫ হাজার ফাইবার-অপটিক ড্রোন এবং দীর্ঘপাল্লার স্যাটেলাইট-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ফাইবার-অপটিক ড্রোন অত্যন্ত ভয়ংকর। কারণ সাধারণ ড্রোনের মতো রেডিও সিগন্যাল নয়, বরং বিশেষ তারের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে সহজে জ্যাম করা বা ধ্বংস করা কঠিন। ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে কার্যকর প্রমাণ হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, এসব ড্রোন দিয়ে ৪০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও নিখুঁত হামলা চালানো সম্ভব। সম্প্রতি লেবাননে একই ধরনের ড্রোনের ব্যবহার দেখা গেছে। সেখানে Hezbollah ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনগুলো Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো সরাসরি রাশিয়া থেকে এসেছে কি না, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কিছু বলেননি।
রুশ গোয়েন্দা বিশ্লেষক Christo Grozev বলেন, ইরানকে সহায়তার এই পরিকল্পনা রাশিয়া-ইরানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতারই অংশ। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু ড্রোন সরবরাহ নয়—এগুলো পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পরিকল্পনাও ছিল। রাশিয়ায় অধ্যয়নরত ইরানি শিক্ষার্থী এবং সিরিয়ার আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যদের ড্রোন অপারেটর হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল ওই নথিতে।
যদিও এসব ড্রোন ইতোমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে একই প্রযুক্তির উপস্থিতি রাশিয়ার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই মস্কো ও তেহরান নতুন সামরিক সহযোগিতার এই নীলনকশা তৈরি করেছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক :তানভীর হাসান।
ব্যাবস্থাপনা পরিচালক:মীর মোশাররফ হোসেন।