যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়তে পারে

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়তে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:-
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কাঠামোগত আলোচনার অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এতে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু বন্দর অবরোধ শিথিল এবং নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও বিবেচনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ঘিরে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচির নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা চললেও তাদের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সংগঠনটির দাবি, ভবিষ্যৎ যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে ‘যুদ্ধের স্থায়ী ও স্থিতিশীল অবসান’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে যেকোনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।

চলমান সংকটের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে ভারত মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ