ভিসা টিকিট ছিল না তবু প্রতি বছর পৌঁছে যেতেন কাবার দরজায়

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২৬

ভিসা টিকিট ছিল না তবু প্রতি বছর পৌঁছে যেতেন কাবার দরজায়

রিপোর্ট: রুহিন আহমদ:-দুনিয়ার সব হিসাব কখনও কখনও থেমে যায় কিছু মানুষের জীবনের সামনে।

কারণ তাদের পথ মানুষ তৈরি করে না তাদের পথ তৈরি করে দেন আল্লাহ নিজেই।
তানজানিয়ার দারুস সালামের এমনই এক বিস্ময়কর মানুষ ছিলেন শায়খ মুসা আলী রহ., যিনি পুরো পৃথিবীতে পরিচিতি পান “শায়খ রকেট” নামে।

একজন মানুষ যার হাতে কখনও পর্যাপ্ত টাকা ছিল না, ছিল না নিশ্চিত টিকিট কিংবা অনুমতি। তবুও বছরের পর বছর তিনি পৌঁছে গেছেন আল্লাহর ঘরে। যেন অদৃশ্য কোনো শক্তি তাঁকে টেনে নিয়ে যেত কাবার দিকে।

ঘটনার শুরু ১৯৬৬ সালে।

শায়খ মুসা আলী রহ. এক রাতে স্বপ্নে দেখেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে। সেই স্বপ্নে নবী ﷺ তাঁকে মদিনা জিয়ারত ও হজ্জের নির্দেশ দেন। আরও সুসংবাদ দেওয়া হয় তিনি পঞ্চাশ বারেরও বেশি হজ্জ পালন করবেন।

এরপর থেকেই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য সফর।

১৯৬৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ৫০ বার হজ্জ সম্পন্ন করেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো—অনেক সময় হজ্জের সফরে বের হওয়ার মুহূর্তেও তাঁর কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকত না।
তবু তিনি যেতেন।

একবার তো তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ্জে যাওয়ার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। কিন্তু পরে তানজানিয়ার প্রতিনিধি দল যখন মক্কায় পৌঁছায়, তারা অবাক হয়ে দেখে—শায়খ মুসা আলী ইতোমধ্যেই সেখানে উপস্থিত!

কেউ বলতে পারেনি তিনি কীভাবে পৌঁছালেন।
মানুষ বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করত, “শায়খ, আপনি এত দ্রুত কীভাবে পৌঁছে যান?”
তিনি হেসে উত্তর দিতেন।

“রকেটে করে!”
সেই থেকেই তাঁর নাম হয়ে যায় “শায়খ রকেট”।
কিন্তু তাঁর জীবন শুধু অলৌকিক হজ্জযাত্রার গল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
তিনি তানজানিয়া ও মোজাম্বিকের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ঘুরে ঘুরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন হাজারো মানুষের কাছে। জানা যায়, তাঁর দাওয়াতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো অনেক নবদীক্ষিত দরিদ্র মুসলমানকে তিনি নিজের খরচে হজ্জ ও ওমরাহ করিয়েছেন।
যে মানুষটির নিজের কাছেই প্রায় কিছু থাকত না, সেই মানুষই অন্যদের আল্লাহর ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন।
এ যেন দুনিয়ার হিসাবের বাইরে এক জীবন।
শায়খ রকেটের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই
হজ্জ শুধু টাকার ওপর নির্ভর করে না।

 

হজ্জ হয় আল্লাহর ডাকে।

আর যাকে আল্লাহ ডাকেন, তার জন্য পথও আল্লাহ নিজেই খুলে দেন।
২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি, প্রায় এক শতাব্দীর জীবন শেষে দারুস সালামে ইন্তেকাল করেন এই বিস্ময়কর মানুষটি।

কিন্তু তাঁর গল্প আজও মানুষকে মনে করিয়ে দেয়
তাওয়াক্কুল শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এমন এক বিশ্বাস, যেখানে অসম্ভবও কখনও কখনও বাস্তবে রূপ নেয়।

হয়তো এ কারণেই কিছু মানুষকে দেখে মনে হয়
তারা পৃথিবীতে হাঁটলেও, তাদের পথচলা আসমানের নির্দেশনায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ