ঢাকা ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:-আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, অজ্ঞান ও মলম পার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় মাঠে নেমেছে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছয় ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মহাসড়কে ডাকাতি, পশুবাহী গাড়ি ছিনতাই, বাসাবাড়িতে চুরি এবং গণপরিবহনে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে টহল ও নজরদারি।
রাজধানীতে অতিরিক্ত প্রায় ১৬ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ৬০টি বিশেষ টহল টিম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন থাকবে। পশুর হাট ও নগদ অর্থ লেনদেন হয়—এমন এলাকাগুলোতে বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার। নগদ অর্থ নিরাপদে পরিবহনের জন্য থাকছে বিশেষ মানি এসকর্ট টিম।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, রাজধানীর পশুর হাট, শপিং মল, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাট এলাকায় ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর বাড়ানো হয়েছে কড়া নজরদারি।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরুবাহী গাড়ি ছিনতাই, ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও পশু লুটের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, দাউদকান্দি, চান্দিনা ও ফেনীর কিছু অংশকে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ সবাইকে পশুর হাটে নগদ অর্থ বহন না করে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, “অপরাধীরা সাধারণত রাতের সময়কে টার্গেট করে। তাই মহাসড়কে রাতভর টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক ছিনতাইপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। তাই মোটরসাইকেলভিত্তিক অপরাধ দমনে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা, গভীর রাতে নির্জন সড়ক এড়িয়ে চলা এবং যাত্রাপথে মূল্যবান জিনিসপত্র সতর্কতার সঙ্গে বহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, “ঈদে মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক :তানভীর হাসান।
ব্যাবস্থাপনা পরিচালক:মীর মোশাররফ হোসেন।